লগডাউনের ফাঁদে পড়ে মোরেলগঞ্জের নিম্ন আয়ের মানুষ বিপর্যস্ত

এইচ এম জসিম উদ্দিন, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ

বিশ্বব্যাপী এখন সবচেয়ে বড় সংকটের নাম কোভিড-১৯ । করোনা ভাইরাসে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। থেমে নেই মৃত্যুর মিছিলও। তার ঢেউ এসে আমাদের দেশেও লেগেছে। দেশে দেশে চলছে লকডাউন। আমাদের বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। গেলো বছর করোনায় দীর্ঘদিন লকডাউনের কারণে আর্থিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। লগডাউনে পড়ে সাধারণ শ্রমজীবি মানুষ আজ বিপর্যস্ত।

সারাদেশের ন্যয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষও আজ দিশেহারা। সরকারি সাহায্য যৎসামান্য। তাও অনেকের গাতে পৌছে নাই। আয়ের পথে প্রতিবন্ধকতায় সংসার খরচ, ঋণের কিস্তি প্রভৃতি মেটাতে তারা আজ দিশেহারা। প্রথম দফার লকডাউনকালীন বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে জীবনযুদ্ধরত এসব নিম্ন আয়ের মানুষ। এমন বাস্তবতায় দেশে পূর্বের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে তৃতীয় দফায় বেড়েছে করোনা সংক্রমণ।

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে লকডাউন বাড়িয়েছে সরকার। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন এ উপজেলার নিম্ন ও নিম্ন বিত্তের মানুষেরা। এ সময়ের মধ্যে ফার্মেসি আর নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া সব কিছু বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। যদিও এখন সরকারের পক্ষ থেকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দোকান খোলার অনুমতি পেয়েছে। পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য মানুষকে ঘরে রাখতে চলছে নানা কার্যক্রম। ফলে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ । উপর্যুপরি লকডাউন আর নানা অর্থনৈতিক বিধি নিষেধে পড়ে করোনার আক্রমণ ছাড়াই নিথর হতে বসেছেন তারা। অনেকটা মরার আগেই মরে যাওয়া।

একদিকে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া। অন্যদিকে খাবারের চিন্তা সব মিলিয়ে ভালো নেই উপজেলার শ্রমজীবী মানুষেরা। করোনা ভাইরাসের সকল সতর্কতা জেনেও যারা পেটের দায়ে ঝুঁকি নিয়ে ঘর থেকে বের হলেও পাচ্ছেন না কাজের সন্ধান। আর যারা ভ্যান কিংবা অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান তারাও পাচ্ছেন না যাত্রী। এতে ঘর থেকে বের হলেও রোজগার হচ্ছে না প্রয়োজনীয় অর্থ। এ নিয়ে বিপাকে আছেন বেশিরভাগ মানুষ। ফের লকডাউনের খেটে খাওয়া মানুষের কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ।

অটোরিকশা চালক বাবুল মিয়া বলেন, ‘গাড়ির আয়ই আমার সংসার চালানোর একমাত্র মাধ্যম। লকডাউনে আমাদের না খেয়ে মরার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। এমনিতেই গতবছরের অভাব-অনটন সেরে উঠতে পারছি না। এখন আবার লকডাউন করোনা নয় হয়তো না খেয়েই মরতে হবে।’ মোরেলগঞ্জ বাজারের কয়েক জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রতিদিন ব্যবসা করে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চলতো। কিন্তু বর্তমানে মানুষের সমাগম বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের নির্দেশে দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকলেও এখন দোকান শর্তসাপেক্ষে খোলার অনুমতি পেয়েছি কিন্তু খরিদ্দার নেই তেমন । আমরা গরীব মানুষ কোথায় যাব। এভাবে লাগাতার চলতে থাকলে আমাদের না খেয়েই মরতে হবে।’

অটোরিকশা চালক বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষ নেই। রুজি করব কীভাবে(?) কিন্তু রোজগার না করলে তো সংসার চলে না। সব মিলেয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।’
সবচেয়ে অসুবিধায় আছে বাস মালিক-শ্রমিকেরা। এর সাথেজড়িত আলমগীর ফরাজী, শহিদুল ইসলাম তো বলেই ফেললেন, ‘অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমাদের সাথে পেট নেই, সংসার নেই। সরকারি কোন সহায়তাও এখন পর্যন্ত পাইনি।’

এছাড়া গেলো বছর মোরেলগঞ্জে লকডাউন চলাকালে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসী, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ খাদ্যসামগ্রী, আর্থিক অনুদান বিতরণ করেছিলেন। তবে এবছর লকডাউনে সেসব সাহায্য দিতে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ নির্বাহী অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন,সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া প্রণোদনা ঈদের আগে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের অসহায় ছিন্নমূল মানুষের কাছে পৌঁেছ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাই শুধু সরকার নয় পাশাপাশি সকল বিত্তবান মানুষের এসব নি¤œ আয়ের মানুষের সাহায্যে এগিয়ে না আসলে থেমে যাবে তাদের জীবন যাত্রা।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন