আত্রাইয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে মাচায় লাউ চাষ

নওগাঁর আত্রাইয়ে ধান চাষের পাশাপাশি চাষিরা এখন নানান জাতের সবজিসহ মাচায় লাউ চাষ শুরু করেছে।সহজ পদ্ধতি এবং গাছের গুনগত মান ভালো থাকায় ফলন বেশি পেয়ে চাষিদের কাছে এখন মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এক চাষির দেখে প্রতিবেশি অন্য চাষিরাও মাচায় লাউ চাষ শুরু করেছেন। অল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ার কারণে নানান জাতের লাউ চাষ এখন সনাতন পদ্ধতির বদলে মাচায় চাষ করে অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় চাষিরা।

প্রতিদিনই পাইকারী এবং খুরচা দরে জমি থেকে লাউ বিক্রি হওয়ায় বাজারে দেয়ার ঝামেলা না থাকায় এটা আরও ভালো দিক দেখছেন চাষিরা। স্থানীয় কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে উন্নত জাতের বীজ চাষিরা হাতে পাওয়ায় মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রায় প্রতি মাসেই গাছের ডগায় ডগায় নানান ওজনের লাউ ঝুলছে।

উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের ইকরাইল হোসেন,আমজাদ মন্ডল, বিল্লাল হোসেন জানান একটু বাড়তি আয়ের আশায় প্রতিবেশি ও অন্যান্য কৃষককের দেখে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষের জন্য আমরা বাড়ির ভিটেতে পতিত জমিতে প্রতি বছর প্রায়১০ হাজার টাকার উর্দ্ধে লাউ বিক্রয় করে থাকি।

শখের বশে জমির কিছু অংশ নানান জাতের সবজি চাষের পাশাপাশি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কিছু জমিতে মাচা পদ্ধতিতে কৃষি অফিসের পরামর্শে উন্নত জাতের বীজ দিয়ে লাউ চাষ শুরু করেন তারা।

দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো ঠিক রাখায় গাছের ডগায় ডগায় প্রচুর পরিমাণে ছোট বড় মাঝাড়ি ওজনের লাউ ধরেছে।

কৃষক ইকরাইল হোসেন জানান, আমি মূলত মাঠে ধান চাষ করি। প্রতিবেশি  গ্রামের সবজি চাষিদের নানান জাতের সবজি চাষ দেখে তাদের সহযোয়িতায় সেখানে নানান জাতের সবজি চাষের পাশাপাশি মাচা পদ্ধতিতে উন্নতমানের বীজ দিয়ে লাউ চাষ করি।

তিনি আরো জানান প্রায় পাঁচ মাস বয়সের মধ্যে ছোট বড় ও মাঝাড়ি মিলে প্রায় হাজার পিস লাউ বিক্রি করেছি। বাজার মূল্য শুরুতে ভালো পেলেও শেষ মহুর্তে আশানূরুপ দর পাইনি। ফলে যে পরিমাণ লাভের আশা করছিলাম তার চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। সব মিলে আমি দিনদিন সবজিসহ লাউ চাষের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।

আত্রাই  উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ কে এম কাউছার  জানান, মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ লাভজনক হওয়ায় আত্রাইয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রায় ২০টির মতো মাচায় লাউচাষ পদ্ধতি গড়ে উঠেছে।

আমরা সরাসরি চাষিদেরকে আগ্রহী করে তোলার লক্ষে সার্বিক পরামর্শসহ উন্নত জাতের বীজ দিয়ে সহযোগিতা করছি। এই পদ্ধতিতে লাউ চাষে রোগবালাই কম ও ফলন বেশি হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছে। প্রায় প্রতি মাসেই এই লাউ গাছে ধরে। কীটনাশকমুক্ত লাউ হওয়ায় বাজারে বিক্রির কোনো সমস্য না হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বার্তা প্রেরক
আব্দুল মজিদ মল্লিক
নওগাঁ প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন