আগামীকাল ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সোমবার ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল-২০২০ এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে বিকাল ৪টায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন তিনি। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওথাইমিন, কাতারের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী সালেহ বিন গানেম আল আলী, আজারবাইজানের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আজাদ রহিমভ, আইসিওয়াইএফের প্রেসিডেন্ট তাহা আইয়ানসহ বিশ্ব নেতারা।

ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল আয়োজন উপলক্ষে শনিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও যুব ও ক্রীড়া সচিব আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ইসলামিক কোঅপারেশন ইয়ুথ ফোরামের (আইসিওয়াইফ) প্রেসিডেন্ট তাহা আইয়ান ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা ১২ এপ্রিল ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে ওই কর্মসূচি স্থগিত করতে হয়। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে নতুন আঙ্গিকে ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটালের সব কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশা করছি সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় মুজিববর্ষে আমরা অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারব।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এ বছর ওআইসি যুব রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি জাতি হিসেবে আমাদের গর্বিত করে। ২৭ জুলাই (সোমবার) বছরব্যাপী বিস্তৃত ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল-২০২০ এর নানা আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বের ৭৫টি দেশের প্রায় ১২ শতাধিক তরুণ এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে অনলাইনে আবেদন করেছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বে আমাদের যুবসমাজের অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হবে। আমরা বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা ভোগ করছি। আমাদের মেধাবী ও দক্ষ যুব শক্তি রয়েছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ সরকার যে মানবিক সহায়তা করছে সেটিও বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।’

মুসলিম বিশ্বের তরুণদের দৃঢ় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার প্রয়াস এবং নানামুখী কৃতিত্বে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ইসলামিক কো-অপারেশন ইয়ুথ ফোরাম (আইসিওয়াইএফ) ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে ‘ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল’র স্বীকৃতি প্রদান করে আসছে। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া তুমুল প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করে ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ গৌরবজনক এ স্বীকৃতি অর্জন করে। ‘ঢাকা-ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০’-এর প্রতিপাদ্য ‘রিসাইলিয়েন্স ফর প্যারিটি অ্যান্ড প্রসপারিটি’ যা এ সংকটকালীন সময়ের কথা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর ২৭ ও ২৮ জুলাই ২ দিনব্যাপী ‘রিসেলিয়েন্ট ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট’ শিরোনামে যুব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে থাকবে কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুবসমাজ এবং প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়ে দেশ ও বিদেশের বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে সেশন।

এছাড়া সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য হবে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ও অত্যাচারিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিষয়ে বিশ্বব্যাপী যুব সম্প্রদায়কে সচেতন করা এবং মিয়ানমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতকরণে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলা। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভার্চুয়াল পরিদর্শন এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে যুব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে ব্যাপকভাবে সচেতন করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার আদর্শ ও আপসহীন সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস বিশ্বের যুব সম্প্রদায়কে জানানোর জন্য ‘বঙ্গবন্ধু গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে। বছরব্যাপী অন্যান্য অনুষ্ঠান হল- কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা, ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, চিত্রকলা প্রদর্শনী, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্কাউটক্যাম্প, এন্টারপ্রেনারশিপ, স্কিল ও এমপ্লয়মেন্ট ক্যাম্প এবং কুইজ প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।

 

 

 

সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন